September 20, 2026

মার্কিন প্রবীণদের খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মুসলিম যুবকরা

আতঙ্কের মধ্যেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রবীণদের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন দুই মার্কিন মুসলিম যুবক।

শিকাগো ট্রিবিউন পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রবীণদের কাছে প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন মুসলিম যুবকরা। এই কাজের জন্য তারা ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন।

এই সংকটময় সময়ে তারা কিভাবে এই কাজটি করছেন?

শিকাগো ট্রিবিউন বলছে, ইসলামিক সেন্টার ফর ইয়ুথ অফ নেপারভিল-এর সদস্যরা সর্ব প্রথম এই সেবা চালু করে।

গত ১৬ মার্চ ফেসবুকে তারা একটি ঘোষণা দেয়, ওই সেন্টারের যুবকেরা নেপারভিলের বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এবং শারীরিকভাবে কেনাকাটা করতে অক্ষম ব্যক্তির ঘরে বিনামূল্যে খাদ্য ও পণ্য সরবরাহ করবে। এরপর থেকে ব্যাপক সাড়া পেতে শুরু করে তারা।

ইজাম মুহাম্মাদ সেন্টারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং সেবা চালু করার পেছনে সক্রিয় ব্যক্তি। তিনি তার অনুভূতি জানাতে গিয়ে বলেন, আমি যখন দু’জন অতি বৃদ্ধ স্বামী-স্ত্রীকে বাজারে কেনাকাটা করতে দেখি এবং দেখি এটি তাদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক হচ্ছে তখন আমার মাথায় চিন্তা আসে আমি কেন তাদের সাহায্য করব না?

এরপর আমি আমার বন্ধুদেরকেও আহ্বান করি। আর এতেই ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। আমরা প্রায় ৩০ জন যুবক এখন এই কাজটি করছি। যাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫-এর মধ্যে। আরও ১৫ জন রয়েছেন যারা চাহিদা বাড়লে আমাদের সহযোগিতা করে। এখন পর্যন্ত অনেকেই সেবা নিয়েছেন এবং আরও অনেকে সেবা নেয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

জনহিতৈষী কাজটি শুরু করেন ইসলামিক সেন্টারটির সদস্য আহমাদ সাইয়্যেদ ও ইজাম মুহাম্মাদ। তারা দু’জন অন্য মুসলিম যুবকদের নিয়ে খাদ্য সংগ্রহ করে এবং তা প্রবীণদের কাছে পৌঁছে দেন। তাছাড়া তারা করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে যারা কেনাকাটা করতে পারেন না তাদের কেনাকাটা করে দেন।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ইসলামিক সেন্টার ফর ইয়ুথ অফ নেপারভিল প্রবীণদের জন্য খাদ্য বিতরণ পরিসেবা চালু করার পর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য পশ্চিমের সব রাজ্য থেকে এই সেবা চালুর জন্য আহ্বান করা হচ্ছে।

সেন্টারটির কাজে অন্যরাও এমন মানবিক কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছে। আমেরিকান মিডওয়াইস্টে ইসলামিক সেন্টারগুলো ইতিমধ্যে নেপারভিলি যুবকদের অনুসরণে কাজ শুরু করেছে।

আল-মুজতামা অবলম্বনে মুহাম্মাদ শোয়াইব

Daily Jugantar, ২৯ মার্চ ২০২০

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *