বিশ্বব্যাপী মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। চীনের উহান প্রদেশ থেকে শুরু হওয়া এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ১৯০টির বেশি দেশ, বাংলাদেশে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭০ জন এর মধ্যে মারা গিয়েছেন আট জন। সারাদেশে এর প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাঃ
করোনা ভাইরাসের আক্রমনে সংকটাপন্ন মানুষকে দিক নির্দেশনা দিতে ২৩ মার্চ মন্ত্রীসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দশটি নির্দেশনা দেন।
১. ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারন ছুটি থাকবে। তবে কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান, হাসপাতাল এবং জরুরি যেসব সেবা আছে তার জন্য এগুলো প্রযোজ্য হবে না। করোনাভাইরাস বিস্তৃতির জন্য সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনসাধারণকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ক্রয় ও চিকিৎসা গ্রহণ ইত্যাদি) কোনোভাবেই ঘরের বাইরে না আসার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২. এ সময়ে যদি কোনো অফিস-আদালতে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হয় তাহলে তাদের অনলাইনে সম্পাদন করতে হবে। সরকারি অফিস সময়ের মধ্যে যারা প্রয়োজন মনে করবে তারাই শুধু অফিস খোলা রাখবে।
৩. গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যথাসম্ভব গণপরিবহন পরিহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবে তাদের অবশ্যই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেই গণপরিবহন ব্যবহার করতে হবে। গাড়িচালক ও সহকারীদের অবশ্যই গ্লাভস এবং মাস্ক পরাসহ পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।
৫. ২৪ মার্চ থেকে বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে সশস্ত্র বাহিনী জেলা প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত থাকবে। দেশের ৬৪ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাদের স্ব স্ব জেলার প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর জেলা কমান্ডারকে রিকুইজিশন দেবে।
৬. করোনাভাইরাসের কারণে নিম্নের কোনো ব্যক্তি যদি স্বাভাবিক জীবনযাপনে অক্ষম হয় তাহলে সরকারের যে ঘরে ফেরার কর্মসূচি রয়েছে, সে কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নিজ নিজ গ্রামে ফিরে গিয়ে আয় বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবেন।
৭. ভাসানচরে এক লাখ লোকের আবাসন ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। এ সময় যদি দরিদ্র কোনো ব্যক্তি ভাসানচরে যেতে চান তাহলে তারা যেতে পারবেন। জেলা প্রশাসকদেরকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
৮. করোনাভাইরাসজনিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয় অন্নসংস্থানের অসুবিধা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকদের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে এ সহায়তা প্রদান করা হবে।
৯. প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ৫০০ জন চিকিৎসকের তালিকা তৈরি ও তাদের প্রস্তুত রাখবে। যাতে করে তাদের করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রয়োজনে কাজে লাগানো যায়।
১০. সব ধরনের সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাগম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ জ্বর সর্দি কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মসজিদে না যাওয়ার জন্য বারবার নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও সম্প্রতি মিরপুরে একজন বৃদ্ধ অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি পরে মৃত্যুবরণ করেন। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের প্রতি অসুস্থ অবস্থায় মসজিদে নামাজ আদায় করতে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
করোনা-পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলায় সরকারের পদক্ষেপ
স্বাস্থ্যসেবাঃ
করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) শনাক্তের পরীক্ষা সহজ ও দ্রুত করতে পরীক্ষা কেন্দ্র বৃদ্ধির কাজ করছে সরকার। বর্তমানে দেশের ১৪টি স্থানে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেগুলো হলো
১। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)
২। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (আইপিএইচ)
৩। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)
৪। আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অফ প্যাথলজি
৫। শিশুস্বাস্থ্য গবেষণা ফাউন্ডেশন ও শিশু হাসপাতাল (সিএইচআরএফ অ্যান্ড এসএইচ)
৬। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)
৭। ইনস্টিটিউট ফর ডেভলপিং সায়েন্স অ্যান্ড হেলথ ইনিসিয়েটিভস (আইদেশী)
৮। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ
৯। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ল্যাবরেটরি মেডিসিন
ঢাকার বাইরে
১। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), চট্টগ্রাম
২। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ, ময়মনসিংহ
৩। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ, রাজশাহী
৪। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ, রংপুর
৫। কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ, কক্সবাজার
আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে ঢাকায় ১০ হাজার ৫০টিসহ সারা দেশে ১৪ হাজার ৫৬৫টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের কাফন, জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করার জন্য সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৬ সদস্যের একটি টিম গঠন করছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
রাজধানী ঢাকাতে অনেকগুলো হাসপাতালে হচ্ছে করোনার চিকিৎসা, এগুলো হলো উত্তরার কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারী হাসপাতাল (যোগাযোগঃ 01999-95629), কমলাপুরের বাংলাদেশ রেলওয়ে জেনারেল হাসপাতাল (যোগাযোগঃ +8802-5500742), নয়াবাজার মতিঝিলের মহানগর জেনারেল হাসপাতাল (যোগাযোগঃ 02-57390860; 02-7390066), মিরপুর মেটারনিটি হাসপাতাল (যোগাযোগ- 02-9002012), লালবাগের কামরাঙ্গিরচর ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল (যোগাযোগ- 0172632118), সাভারের আমিনবাজার ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল (যোগাযোগ- 01700000000, 01712290100), কেরানিগঞ্জের জিনজিরা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, জুরাইনের সাজিদা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল (যোগাযোগ- 01777-771625) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ (যোগাযোগ- 01819220180), শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইন্সটিটিউট ও হাসপাতাল, লালকুঠি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, উত্তরা ও মিরপুরের রিজেন্ট হাসপাতাল এবং মুন্সীগঞ্জের ইউনাইটেড হাসপাতাল।
বর্তমানে সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৫০০ ভেন্টিলেটর আছে। তার সাথে আরো ৭০০ ভেন্টিলেটর বসানোর কাজ চলছে। আমদানি করা হচ্ছে আরো ৩৫০ টি। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে আছে ৭০০ ভেন্টিলেটর। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নতুন ১০০ আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) শয্যা স্থাপনের কাজ চলছে। সেই সাথে আরও ৩০০ শয্যার সরঞ্জাম আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পাশাপাশি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এ হেল্পলাইন স্থাপন করা হয়েছে । এর নাম্বারগুলো হলো 16263 (Hotline), 333, 10655, 01944333222, 01401184551, 01401184554, 01401184555, 01401184556, 01401184559, 01401184560, 01401184563, 01401184568, 01927711784, 01927711785, 01937000011, 01937110011। এখন পর্যন্ত এখান থেকে সেবা নিয়েছেন ১১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৫১ জন। হটলাইন সিস্টেমে চিকিৎসাসেবা ও তথ্য প্রদানে যুক্ত আছেন ১ হাজার ৫৪১ জন চিকিৎসা সেবা কর্মী। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় তথ্য এক জায়গায় পাওয়ার সুবিধার্থে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে যার ঠিকানা www.corona.gov.bd।
সারা দেশে ৩২৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সনাক্ত করতে ইতিমধ্যে ৯২ হাজার টেস্টিং কিট সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ হাজার কিট বিতরন করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে ৭৩০ জন চিকিৎসক, ৪৩জন নার্স এবং ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের। এছাড়া কোভিড ১৯ বিষয়ক অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করেছেন ১০ হাজার ৮১২ জন চিকিৎসক। ডাক্তারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সারা দেশে ৪ লাখ ১১ হাজার ৩৩৯টি পিপিই বিতরণ করেছে সরকার। এখনও মজুদ রয়েছে ৫৮ হাজার ১৬৩টি পিপিই।
পাশাপাশি, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের জন্য অ্যালকোহল, করোনা টেস্ট কিট, টেস্ট ইনস্ট্রুমেন্ট, জীবানুনাশক, মাস্ক, প্রটেকটিভ গিয়ারসহ মোট ১৭ ধরনের পণ্য আমদানিতে শুল্ক ও কর অব্যাহতির ঘোষণা দিয়েছে রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর। শুল্কমুক্ত পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত থাকছে তা হলো- ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য আমদানি করতে হবে এবং আমদানি করা পণ্য মানসম্মত কি না তা অধিদপ্তর কর্তৃক নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনগণের সার্বিক অবস্থা জানতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গ্রাহকদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য পেতে সব মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর কাছে এসএমএস পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসএমএসের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের গ্রাহকের শ্বাস কষ্ট, জ্বর বা কাশি থাকলে *৩৩৩২# নম্বরে ডায়াল করতে বলা হচ্ছে । কোনো গ্রাহক *৩৩৩২# নম্বরে কল করলে ৯০ সেকেন্ডের একটি আইভিআর ভয়েস পাবে যেখানে আবার তাকে পাঁচটি প্রশ্ন করা হচ্ছে। গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া প্রশ্নের উত্তরগুলো সরাসরি চলে যাচ্ছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বা আইইডিসিআরের কাছে। পরে সেগুলো পর্যালোচনা করে কিছু গ্রাহকের কাছে আরো বিস্তারিত তথ্য জানাতে তাকে আইইডিসিআর থেকে ফোন করা হবে।
দরিদ্রদের সুরক্ষাঃ
করোনার প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে খেটে খাওয়া, হতদরিদ্র ও ভাসমান মানুষেরা। এদের কথা মাথায় রেখে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে।
সারাদেশে নিম্ন আয়ের মানুষদের ১০ টাকা কেজি দরে ৯০ হাজার টন চাল দেওয়া হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোকাবেলায় গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ছয় মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সারা দেশে অতিরিক্ত সাড়ে ৬ কোটি টাকা ও ১৩ হাজার টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। এসব চাল ও টাকা ত্রাণ হিসেবে নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৬৪ জেলায় ১২ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ৪৬ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।
সিলেটে দরিদ্র, দিনমজুরদের সহায়তায় সরকার নগদ ১০ লাখ টাকা এবং ৩২১ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। রাজশাহী সিটি মেয়র নিম্ন আয়ের ২০ হাজার পরিবারকে চাল ও ডাল দিচ্ছেন। কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ১০ হাজার হতদরিদ্র মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ২১৫ জন দিনমজুর ও কাঠুরেকে ১০ দিনের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য দৌলতদিয়া যৌনপল্লির ১৩০০ সদস্যের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। পিরোজপুর সদরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ১০০০ কর্মহীন মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন । বরগুনায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য। নওগাঁ সদর উপজেলায় গতকাল ১০ হাজার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য দুই হাজার শ্রমজীবী মানুষের বাড়িতে সাত দিনের খাবার পৌঁছে দেন। কেরানীগঞ্জে প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য নসরুল হামিদ। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় মাননীয় তথ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৫০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। গাজীপুর-৩ আসনে ১৫ হাজার পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাদারীপুর জেলার ৩ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন যশোরের মনিরামপুরে কর্মহীন ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান। কর্মহীন ৪০ হাজার পরিবারের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন ৮ হাজার নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে। মাদারীপুরে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে হতদরিদ্র ৭ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন ৪০০ পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী বিতরণ করেন মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপি। নাটোরের সিংড়ায় ৫ হাজার কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গাজীপুরের সিটি মেয়র ৬০ হাজার কর্মহীন পরিবারকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছেন। নারায়নগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য তার এলাকার কর্মহীন মানুষের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার অনুদান দিয়েছেন। বরিশাল-৪ আসনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। নাটোরের সিংড়ায় পৌর মেয়র ভাইরাসের কবল থেকে মানুষকে রক্ষার্থে ঘরে ঘরে খাবার পৌছে দিচ্ছেন। কুষ্টিয়ায় প্রায় ১০০০ পরিবারের ঘরে খাবার পৌছে দিয়েছেন স্থানীয় সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য। বাউফলের ৮৫০টি কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন স্থানীয় পৌর মেয়র।
গাজীপুরে কর্মহীন ৫০ হাজার পরিবারের মাঝে রাতের বেলা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। করোনা পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ধাপে ফেনীর পাঁচটি উপজেলার ৭০ হাজার নিম্নআয়ের শ্রমজীবী পরিবারের জন্য খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম হাজারী। সকাল থেকে যশোর সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়নে সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের উদ্যোগে ও পৃষ্ঠপোষকতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ‘মানুষ মানুষের জন্য’ কর্মসূচির আওতায় আজ দ্বিতীয় পর্যায়ে ১ হাজার দরিদ্র মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য।
ঝিনাইদহ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলার নিম্ন আয়ের হতদরিদ্র ২৫ হাজার মানুষের মুখে খাবার তুলে দিলেন পৌর মেয়র। নরসিংদী শহরের দরিদ্র ও শ্রমজীবী ২০ হাজার মানুষের ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন পৌর মেয়র। ঢাকা-২ আসনে করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষকে ত্রাণ দিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। যশোর-৩ আসনের ৮০০ পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার ব্যবস্থাপনায় উপজেলার পরিষদ ও আওয়ামী লীগের সহযোগীতায় আজ শনিবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১২,০০০ হতদরিদ্র দিনমজুর, কর্মহীন ও অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খুলনা-৪ আসনের এমপি আব্দুস সালাম মূশের্দীর নিজস্ব অর্থায়নে রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের সকল ওর্য়াডে দু:স্থ, অসহায় ও গরিব ২৫০ জনের মাঝে ত্রান বিতরন করেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য।
করোনার বিস্তার রোধে উদ্যোগঃ
করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস-আদালত, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদি বন্ধ ও সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১৭ মার্চ থেকে আগামী ৯ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করে হয়েছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের শুরুর দিকে এই পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি জানানো হবে। আগামী ১৪ই এপ্রিল পর্যন্ত সাধারন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেছে সরকার। সংসদ টিভিতে ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ নামক অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেনী পর্যন্ত বিষয়ভিত্তিক ক্লাস চালু করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই ক্লাস চালু রাখতে পারে এবং পড়াশোনার ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়। গত ২৯ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে।
২১ মার্চ দিবাগত রাত থেকে সব দেশের সঙ্গে বিমান চলাচল ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট ২৪ মার্চ রাত ১২টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি থেকে মে—এই চার মাসের গ্যাসের বিল আগামী জুনে জমা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কোনো বিলম্ব মাশুল দিতে হবে না। ডিপিডিসি’র বিদ্যুতের প্রিপেইড বিল প্রদানের অসুবিধা নিরসনের জন্য এজেন্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা এই সময়ে গ্রাহকদের ঘরে গিয়ে রিচার্জের ব্যবস্থা করেন। এজন্য এজেন্টদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। প্রয়োজনে ডিপিডিসির কলসেন্টারে ১৬১১৬ নম্বরে ফোন দিয়ে সহায়তা চাইতে পারবেন গ্রাহকরা।
২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল বিপনি বিতান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সুপারশপ, ওষুধ, মুদি দোকান, কাঁচাবাজারসহ নিত্যপণ্যের দোকানপাট খোলা থাকবে।
আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ থাকবে। নৌযান চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সারাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমন প্রতিরোধে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল, জটলা তৈরি করা, সভা, বৈঠক, আড্ডা দেওয়া বন্ধ করতে বেসামরিক বাহিনীকে সহায়তা করতে ২৪ মার্চ থেকে সেনাবাহিনী নিয়োজিত রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের নির্দেশ না মানলে শাস্তির বিধান করেছে সরকার। নির্দেশ অমান্য করে দোকান খোলা রাখলেও আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।
গুজব মোকাবেলা ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণঃ
করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কারণে ইতোমধ্যে ২০টি ফেসবুক আইডি, পেজ বন্ধ করেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ছাড়া এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত আরও ১০০টি ফেসবুক আইডি, পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে।
সাধারণ মানুষের জন্য কম দামে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। রাজধানীতে ৫০ টি স্থানে এবং সারাদেশে ৩০০ টি স্থানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
দ্রব্যমূল্য যাতে কোন ব্যবসায়ী বাড়াতে না পারে সেজন্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এমনকি কোন অনলাইন শপ ও অস্বাভাবিক মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও সুরক্ষা পণ্য ,যেমন- মাস্ক, ইত্যাদি বিক্রি করে তাহলে ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।
এই সংকটাপন্ন সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার লোভে দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধিতে তৎপর থাকে। এদের প্রতিহত করতে মাঠে কাজ করছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
TAGS:
গুজব প্রতিরোধ, হটলাইন, প্রতিরোধ, করোনাভাইরাস, সচেতনতা, দ্রব্যমুল্য নিয়ন্ত্রণ, কোভিড-১৯, স্বাস্থ্যসেবা
albd.org
